মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রকল্প

 

(১) শিশুর বিকাশে প্রারম্ভিক শিক্ষা প্রকল্প

(২) সিসিমপুর আউটরীচ প্রকল্প

 

কর্মসূচীর বিবরণী

 

বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সাল থেকে মৌলভীবাজার জেলায় শিশুদের উন্নয়নে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্র কার্যালয় প্রাক- প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসুচী, লাইব্রেরী ভিত্তিক কার্যক্রম,পুস্তক প্রদর্শনী, জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা, শিশুদের মৌসুমী প্রতিযোগিতা, শিক্ষা সফর, জাতীয় শিশু অধিকার সপ্তাহ, বিশ্ব শিশু দিবস, সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি,জাতির জনকের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন,রবীন্দ্র- নজরুল জন্ম জয়ন্তী, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, শিশু অধিকার সম্পর্কে গৃহিত কার্যক্রম, ধর্মীয় কর্মসূচি, শিশু আনন্দমেলা, শিশু নাট্য প্রতিযোগিতা, শিশু চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ইসিডিসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করে আসছে। মৌলভীবাজার জেলায় শিশুদের  জন্য  গৃহিত বিভিন্ন কার্যক্রম নিম্নে উল্লে­খ করা হলোঃ

 

১। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচিঃ শিশুর বিকাশে প্রারম্ভিক শিক্ষা (ইএলসিডি) প্রকল্পের আওতায় শিশু বিকাশ কেন্দ্র(এসবিকে) এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র ৭০-৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে চালু রয়েছে। দুইজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক দ্বারা এক বছর মেয়াদী এই কর্মসুচিটি পরিচালিত হয়ে।

 

২। লাইব্রেরী ভিত্তিক কার্যক্রমঃ  লাইব্রেরী ভিত্তিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম উপলক্ষে শিশু একাডেমী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে জ্ঞান জিজ্ঞাসা, বই পড়া ইত্যাদি প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এছাড়া একাডেমীতে একটি লাইব্রেরী রয়েছে । বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী লাইব্রেরীতে এসে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার সুযোগ পায়।

 

 

৩। পুস্ত্তক প্রদর্শনীঃ জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিভিন্ন কর্মসুচির আলোকে যেমন বিজয় মেলা, কৃষিমেলা উপলক্ষে শিশু একাডেমীর পক্ষ থেকে লাইব্রেরীর বই বিত্রয় ও পুস্তক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়ে থাকে।

 

(২)

 

৪। জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতাঃ ৬০টি বিষয় নিয়ে শিশুদের জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। উপজেলা পর্যায়ের ১ম স্থান অধিকারী শিশু জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহন করে থাকে। জেলা পর্যায় থেকে ১ম স্থান অধিকারী শিশু অঞ্চল পর্যায়ে এবং অঞ্চল পর্যায় থেকে ১ম স্থান অধিকারী শিশু চুড়ান্ত পর্যায়ে ঢাকায় অংশগ্রহণ ককে থাকে। বিপুল সংখ্যক শিশু এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

 

৫। শিশুদের মৌসুমী প্রতিযোগিতাঃ জারীগান, বিতর্ক, আঞ্চলিক নৃত্য ও জ্ঞান জিজ্ঞাসা এই চারটি বিষয় নিয়ে শিশুদের মৌসুমী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। চারটি ইভেন্টের এই প্রতিযোগিতা প্রথমে উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়। এরপর উপজেলা পর্যায় থেকে ১ম স্থান অধিকারী দল জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে থাকে। জেলা পর্যায় থেকে ১ম স্থান অধিকারী দল অঞ্চল পর্যায়ে এবং অঞ্চল পর্যায় থেকে ১ম স্থান অধিকারী দল ঢাকায় চুড়ান্ত পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে থাকে।  বিপুল সংখ্যক শিশু এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

 

৬। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনঃ ১৭মার্চ জাতির জনকের জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়ে থাকে। ১৫ আগ্ষ্ট  বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ,আলোচনা সভা, মিলাদ  ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে  জাতির জনকের শাহাদাৎ বাষির্কী পালন করা হয়ে থাকে।

 

৭। শিক্ষা সফরঃ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত ৩০-৪০ জন শিশুদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয়।

 

৮। জাতীয় শিশু অধিকার সপ্তাহঃ ২৯ সে&&প্টম্বর - ৫ অক্টোবর জাতীয়ভাবে নির্ধারিত প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি যেমন- মুক্ত আলোচনা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, শিশু অধিকার সংক্রান্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিশু অধিকার এর  গুরুত্ব ও তাৎপর্য ও শিশু অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক অনুষ্ঠান করা হয়।

 

৯। বিশ্ব শিশু দিবসঃ অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব শিশু দিবস। জাতীয়ভাবে নির্ধারিত প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি যেমন ঃ মুক্ত আলোচনা, শিশু র‌্যালী, শ্রমজীবি ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে বিশ্ব শিশু দিবস অনুষ্ঠানটি করা হয়।

 

১০। সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিঃ সংগীত, নৃত্য চিত্রাংকন, কবিতা আবৃত্তি ও তবলায় ২ বছর মেয়াদী  সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আটজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে।

 

১১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম জয়ন্তী উদযাপনঃ বিশ্বকবিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের রচিত গান,কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রবীন্দ্র-নজরুল জন্ম জয়ন্তী উদযাপন করা হয়ে থাকে।

 

 

(৩)

 

১২। কম্পিউটার প্রশিক্ষণঃ শিশুদের কম্পিউটার বেসিক কোর্স-এ ৩ মাস মেয়াদী  প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ২০০৬ সালের জানুয়ারী থেকে চালু হয়েছে।  দুইজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক দ্বারা এই কর্মসুচিটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

 

 

১৩। শিশু অধিকার সম্পর্কে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি কার্যক্রমঃ সেমিনার, মুক্ত আলোচনা, শিশু অধিকার সংক্রান্ত নাটক, গান, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ইত্যাদির মাধ্যমে শিশু অধিকার সম্পর্কে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

 

 

১৪। ধর্মীয় কর্মসূচিঃ পবিত্র শবে বরাত, শবে কদর ও ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উদযাপন উপলক্ষে ক্বেরাত, হামদ-নাত, রচনা লিখন প্রতিযোগিতা এবং মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে শিশুদেরকে  ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন করে গড়ে তোলা হয়।

              

           

১৫। বিভিন্ন জাতীয় দিবসঃ জাতীয়ভাবে গৃহিত কর্মসূচির সংগে সংগতি রেখে মহান বিজয় দিবস, শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস,বাংলা নববর্ষ ইত্যাদি নিয়মিত পালন করা হয়ে থাকে।

 

 

১৬।  শিশু আনন্দমেলাঃবিভিন্ন  স্কুল ও শিশু সংগঠনের শিশুদের নিয়ে শিশু আনন্দমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। মেলায় শিশুদের তৈরী বিভিন্ন জিনিসপত্র, প্রজেক্ট, সংগৃহীত দ্রব্যাদির প্রদর্শনের জন্য স্টলের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

 

 

১৭। শিশুনাট্য প্রতিযোগিতাঃস্থানীয়ভাবে জেলা উপজেলার স্কুল ও শিশু সংগঠনের মধ্যে দলভিত্তিক এ প্রতিযোগিতার আয়োজন  করা হয়ে থাকে।

 

 

১৮। শিশু চলচ্চিত্র প্রদর্শনীঃ বাংলাদেশ শিশু একাডেমী নির্মিত ও বিভিন্ন শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়ে থাকে।

 

 

১৯। বরেন্য ব্যক্তিদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালনঃস্থানীয় শিশু-কিশোরদের উৎসাহ উদ্দীপনার প্রতীক জেলার এমন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নাম চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে তাঁদের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

 

 

(৪)

 

২০। ইসিডিঃ ইসিডি প্রকল্পের আওতায় ইসিডি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০২-২০০৩ সালে জেলা সদরে ১টি এবং শ্রীমঙ্গল, রাজনগর, কুলাউড়া, সদর, কমলগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলায়  ৬টি মোট ৭টি এ্যাডভোকেসী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাগুলোতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এনজিও, সাংবাদিক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীগণ অংশগ্রহণ করেন। একই সময়ে মৌলভীবাজার জেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীগণকে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউর্ট(NIPORT)-এ ইসিডি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ইএলসিডি প্রকল্পের আওতায় ২০০৮ সালের জানুয়ারী মাসে মৌলভীবাজার জেলা সদরে আরেকটি এ্যাডভোকেসী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা ও ৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদে এ ধরণের কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

চলমান প্রারম্ভিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ২০টি বাগানে নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে ১৫৯টি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু রয়েছে। কেন্দ্রগুলো মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইউনিসেফের সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর মাধ্যমে পরিচালনা করছে।

 

সিসিমপুর আউটরীচ প্রকল্প :

সিসিমপুর প্রকল্পের আওতায় সিসিমপুর প্রদর্শনীর জন্য  প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে ২টি  ভ্যানগাড়ি, ২টি টেলিভিশন, ২টি ডিভিডি এবং ২টি জেনারেটর পাওয়া গেছে।  এগুলো প্রদর্শনের জন্য ইতোমধ্যে ২জন ভ্যানচালককে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে এবং ৫০টি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন করা হয়েছে। জেলার নির্বাচিত ৫০টি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রে সিসিমপুর প্রদর্শনী চালু করা হয়েছে। প্রতিদিন ২টি করে স্কুলে সিসিমপুর প্রদর্শন করা হচ্ছে। গত ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে নির্বাচিত ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০জন শিক্ষককে ‘প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার’ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছেএবং শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়েছে।

 

 

                                                                                        (মোঃ জসীম উদ্দীন)

                      জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা

                                                                                                      বাংলাদেশ শিশু একাডেমী

                                                                                                          মৌলভীবাজার।